Posts

আলোর সঙ্গে...

Image
ডা. রুমি আলম যে হুইলচেয়ারটা দিয়েছিলেন [১] এটা যে এমন কাজে লাগবে তা আমাদের আগাম জানা ছিল না।
কোর্টের সামনে এমরান নামের এই মানুষটাকে উকালতির সূত্রে ফি রোজ নির্বাহি পরিচালক, নিডোর চোখে পড়ে। সিদ্ধান্ত হয় আজ এমরান নামের এই মানুষটাকে হুইল চেয়ার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।  আদালত পাড়ায় চাওড় হয়ে যায় এই খবরটি। অনেকে সানন্দেই উপস্থিত হন আলোর সঙ্গে ভালোর সঙ্গে। এঁদের মধ্যে বিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন, ছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. ওসমান গণি আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শফিউল আজম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ পারভেজ...।
সবার কাছে আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ১. মমতার অসংখ্য হাত: https://nedobd.blogspot.com/2019/03/blog-post_23.html

হাসপাতালের প্রতিটা মানুষের কাছে নতজানু হই।

Image
এই মানুষটাকে পাওয়া গিয়েছিল বিব্রতকর এক ভঙ্গিতে! তিনি এর-ওর কাছে টাকা চাচ্ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল বেশ ক-মাস ধরে তিনি এখানকার সরকারী হাসপাতালে ভর্তি। পরে আলাপে আরও জানা গিয়েছিল এই মানুষটার উপর দিয়ে ট্রাক চলে গিয়েছিল।
সেসব থাকুক কিন্তু এ তো এক অভাবনীয় এক ঘটনা! দীর্ঘ এই ক-টা মাস হাসপাতালের লোকজনেরা অজান্তেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মাথায় ছাদের তিনবেলা খাবারের, চিকিৎসার। আর কিসসু না, মায়া-মায়া। হাসপাতালের লোকজনেরা মায়ার ফাঁদে আটকা পড়েছেন।  সুখি-সুখি চেহারার অনাথ এই মানুষটার কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই কারণ তাঁর কোথাও যাওয়ার জায়গাই নেই। খুব বেশি চাওয়াও নেই- এখানে মাথায় ছাদ আছে, খাবার আছে কেবল পান-টান, তেল-সাবান এটা-সেটার জন্য ভাঙ্গাচোরা এই শরীরটাকে নিয়ে বেরুতে হয় হাহাকার-করা এক ভঙ্গিতে হাত পাততে হয়।
হিসাব কষে দেখা গেল সমস্ত মাসে যে টাকাটা প্রয়োজন এটার অংক বিরাট কিছু না। হাজারখানেক টাকা। এটার একটা গতি হয়েই যাবে...।

মমতার অসংখ্য হাত...।

Image
সাগরকে [১]হুইল-চেয়ারটা দেওয়ার পর আমাদের হাতে আর কোনও হুইল-চেয়ার ছিল না। খানিকটা শংকা কাজ করে সাগরদের মত কারও প্রয়োজন হলে? উপায়? এই সমস্ত কাজে দেরি করার কোনও অবকাশ নাই- কে দেখেছে নেক্সট সামার কে দেখেছে নেক্সট উইন্টার!

আলো আসে, আলোকে আটকাবার ক্ষমতা কারও নাই। ডা, রুমি আলম নামের মানুষটার কল্যাণে একটা হুইল-চেয়ারের ব্যবস্থা হয়েই যায়। এমনিতে মানুষের হাত দুটা কিন্তু মমতাবান মানুষের থাকে অসংখ্য হাত। কোন-এক হাত গলে দু-একটা হুইল-চেয়ার বেরিয়ে আসাটা বিচিত্র কিছু না। 
১. সাগর: https://nedobd.blogspot.com/2019/03/blog-post_16.html

জীবন বড় সুন্দর!

Image
একে আমরা রাস্তায় পাই ঠিক এমন অবস্থায়:
সাগর নামের এই ছেলেটি তার জীবনের যে গল্প শোনায় তা কেবল হতভম্বই করে দেয় না ক্রমশ সরে যায় আমাদের শরীরের চকচকে কাপড় পাল্লা দিয়ে সরে পেটের পাতলা চামড়া। উম্মুক্ত হয়ে পড়ে একপেট আবর্জনা। সে দুর্ঘটনায় হারায় তার দুপা, একটা হাত। এরপরই  তার বাবা-মা তাকে ফেলে দেয়।
সাগরের এখন প্রয়োজন একটা হুইল-চেয়ার। আমাদের হাতে একটা হুইল-চেয়ার আছে বটে যেটা পাঠিয়েছিলেন নাজমুল হুদা এবং তার বন্ধু তানভির হোসাইন [১]। জরুরি অবস্থার জন্য যেটা আমরা রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নেই এটা সাগরকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। চলাফেরায় ওর বড় কষ্ট! এক হাতে যে প্রকারে এ গরম পিচের রাস্তায় শরীরটাকে  টেনে টেনে নিয়ে যায় এটা কঠিন হৃদয়ের একজন মানুষেরও বুক থেকে পাক খেয়ে উঠবে তীব্র হাহাকার।
এর বাবা-মা একে ফেলে দিয়েছে জীবনের এই কুৎসিত দিক যেমন আছে তেমনি আছে আলোকিত এক দিকও। এর ভাই একে বুকে আগলে রেখেছেন। আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম সাগরের ভাইকে এক নজর দেখার জন্য।
সাগরের ভাই 'ভাসানি' নামের এই পাতলা-দুবলা মানুষটার ছায়া ছড়িয়ে যায় চারদিক।
সাগর নিয়ে আমরা খানিকটা ভয়ে-ভয়ে ছিলাম হুইল-চেয়ারে স…

ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করি না হে...।

Image
ইংল্যান্ডে থাকেন দুই বন্ধু, নাজমুল হুদা এবং মীর তানভির হোসাইন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে এঁদের আছে তীব্র অনীহা। তদুপরি এখানে এভাবে নাম উল্লেখ করাটা প্রকারান্তরে এক ধরনের অন্যায়। আমাদের মত অন্যায়ে ডুবে থাকা মানুষের নাহয় আরেকটা অন্যায় বাড়ল বৈকি।
নিয়তে বরকত, তাই বড় সংকোচ নিয়ে এঁরা যে টাকাটা পাঠিয়েছেন তা দিয়ে এই সংস্থার জন্য হয়ে যায় কম্পিউটার এবং হুইল চেয়ার।

কৃতজ্ঞতা

Image
স্কুলের জন্য [১] একটা সেলাই মেশিনের বড় প্রয়োজন ছিল। একটা সেলাই মেশিন  থাকলে এই স্কুলের মহিলারা সেলাই শিখতে পারতেন। সেলাইটা একবার শিখতে পারলে এঁরা সেলাই করে খুব সহজেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারতেন। সেলাই মেশিন- এই সমস্যারও সমাধান হয়।  সাজ্জাদ হোসেন সহৃদয়তার হাত বাড়িয়ে দেন। স্কুলের জন্য বিনে পয়সায় একটা সেলাই মেশিন যোগাড় করে দেন। কৃতজ্ঞতা। 
১. বয়স্ক স্কুল:

একটা নিরাপদ ছাদ।

Image
আমরা খুব অস্থির হয়ে আছি যে-কোনও প্রকারে একটা হোম-আশ্রয়স্থল করার জন্য। কিন্তু মেঘে-মেঘে বেলা বয়ে যায়, সময় গড়ায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অস্থিরতা বাড়ে। কেন? এর ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য এই ঘটনাটাই যথেষ্ট। এদের জন্য একটা আশ্রয়ের প্রয়োজন, বড় প্রয়োজন।
এই ফুটফুটে শিশুটি সদ্যই ভুমিষ্ট হয়েছে আখাউড়া স্টেশনে, উম্মুক্ত আকাশের নীচে। কোথায় ডাক্তার কোথায় নার্স নিদেনপক্ষে গ্রাম্য ধাই। এর বাপ এদেরকে ফেলে উধাও হয়ে গেছে। 'এদের' মানে এর আরও ৩ ভাই-বোন। সব মিলিয়ে ৪ জন!
আপাতত এটাই এদের ক্ষণস্থায়ী বাড়ি-ঘর। স্টেশনের ওভারব্রিজের নীচে। কেউ হয়তো এই ছবির ভুল ধরবেন কারণ এই মা-টার ৪ সন্তান থাকার কথা। ছবিতে একজন নেই। গা শিউরে উঠার মত সত্যটা হচ্ছে বড় সন্তানটাকে অন্য একজনকে দিয়ে দিয়েছেন। 'এ কেমন নিষ্ঠুর মা' যারা এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবেন তারা যদি এই সন্তানটা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়কার এই মাটার জান্তব চিৎকার শুনে থাকেন তাহলে তারা আর এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবেন না।
যাই হোক, প্রসব পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা করেছেন ডা. শাহনেওয়াজ হাসান (সজীব) । কৃতজ্ঞতা।

...

আজ দেখা গেল বাচ্চাদের মাঝে আরেকজন নেই!
জিজ্ঞেস করার প…